Al Shifa Hospital

গাজায় আল শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলী সেনা, জরুরি বিভাগ ও প্রসূতি ওয়ার্ডেও হামলা

সাম্প্রতিক বিশ্ব

 

গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল–শিফা হাসপাতালে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। হামাসকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে তারা।

এ অভিযানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও  প্রসূতি ওয়ার্ডেও ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা ও রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালটিতে হামাস যোদ্ধারা  রয়েছে এমন সন্দেহে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গোয়েন্দা তথ্য এবং অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে’  আল শিফা হাসপাতালের বেশ কিছু অংশে তারা ‘হামাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এবং টার্গেটেড অভিযান’ চালাচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, ‘আল শিফা হাসপাতালটির নিচে হামাসের মূল কমান্ড সেন্টারের অবস্থান। হাসপাতালটির নিচের অংশ হামাস ব্যবহার করে বলে তাদের কাছে প্রমাণ আছে’। যদিও হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরো পড়ুন :  ইসরায়েল ৪০ হাজার টন বোমা ফেলেছে গাজায়

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার পরপর হাসপাতালটিতে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সেনারা আল শিফা হাসপাতালে অভিযানের শুরুতে হামাসের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গাজী হামাদ বলেছেন, ইসরায়েলের এই দাবি ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী নিজেদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দারা আল শিফা হাসপাতাল নিয়ে ইসরায়েলের দাবিকে সমর্থন করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণা কার্যকরভাবে ইসরায়েলকে হাসপাতালে অভিযান চালানোর এটি একটি ‘সবুজ সংকেত’ । এবং এই অভিযানের জন্য হামাস, ইসরায়েল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করছে ।

আরো পড়ুন :  টেসলার নতুন রোবট ডিম ভাজতে পারে!

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদ্রা জানান, হাসপাতালের নিরপেক্ষতা যাচাই করতে বারবার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কেউ সাড়া দেয়নি।

আল-শিফা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এই অভিযানের কারণে হাসপাতালটিতে ৬৫০ জন রোগী আটকা পড়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০০ জনের অবস্থা সংকটজনক। এ ছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নারী, শিশুসহ কয়েক হাজার বাস্তুহারা ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের সবার জীবন এখন ঝুঁকির মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *