বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতির একি অবস্থা, কে এর জন্য দায়ী?

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতির একি অবস্থা, কে এর জন্য দায়ী?

প্রযুক্তি

যেকোনো দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। উন্নত রাষ্ট্রগুলতে যেটা অনেক বেশি গতিশীল। কিন্তু স্মার্ট দেশে রূপান্তরের প্রান্তে থাকা বাংলাদেশের চিত্র যেন একেবারেই উল্টো। Ookla–ওক্লা স্পীড টেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের অনুযায়ী ১৪৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ১০৫এ।

চলুন জেনে নেয়া যাক ইন্টারনেটের গতির দিক থেকে বাংলাদেশের স্থান এত পিছনে কেন, এর জন্য দায়ী কারা এবং এ থেকে উত্তরণের পথ কী?

ইন্টারনেটের গতির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কত?

আলট্রা হাই ডেফিনেশন বা এইচডি ভিডিও দেখা কিংবা নিরবচ্ছিন্ন ভার্চুয়াল মিটিং এর জন্য অপরিহার্য হচ্ছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। এটি যে কোন দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে এই সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ইন্টারনেট গতি নিশ্চিত করতে হয়। যার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে প্রতিবছর এ রিপোর্ট প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওক্লা।

ওক্লার জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে দ্রুতগতি এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার দিক থেকে ০১ম (প্রথম) স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওক্লা স্পীড টেস্ট ইনডেক্সের ০২ ও ০৩ স্থানে আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও কুয়েত আর ০৪ (চতুর্থ) স্থান দখলে রেখেছে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত আছে তালিকার ১৮তম (আঠারো) স্থানে। শীর্ষ ৫০ এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ মালদ্বীপ। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫‌।

আরো পড়ুন :  স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে ‘সিইও অব দ্য ইয়ার’ স্বীকৃতি পেলেন শেয়ারট্রিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সাদিয়া হক
বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতির একি অবস্থা, কে এর জন্য দায়ী?
গতির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান

বাংলাদেশের ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড স্পিড কত?

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এর তথ্য অনুযায়ী দেশের ১৩ কোটি ১৪ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহক হচ্ছে ১১ কোটি ৮৯ লাখ। ওক্লার মতে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের গড় ডাউনলোডের গতি ছিল ২৩ এমবিপিএস। এর আগের মাসে ছিল ২০.৬৬ এমবিপিএস। গতি কিছুটা বাড়লেও খুব একটা লাভবান হচ্ছেন না গ্রাহকরা ।

বাংলাদেশে কেন এত পিছিয়ে ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হোসেন জানায় যে ওক্লা স্পীড টেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান দিনদিন ভালো হচ্ছে কিন্তু তা অত্যন্ত ধীরগতিতে। দ্রুততর ইন্টারনেটের জন্য প্রয়োজন আরো ব্যান্ডউইথ। গ্রাহক বাড়লেও মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো তাদের ব্যান্ডউইথ সে হারে বাড়াচ্ছে না। উচ্চমূল্য ও নিম্নমানের ইন্টারনেটের জন্য ভুল নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কে দায়ী করলেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের তথ্য-ও-যোগাযোগ-প্রযুক্তি আইসিটি নীতি ও নিয়ন্ত্রণ থীং টেং (think-tank) এশিয়ার সিনিয়র পলিসি পেলো আবু জায়েদ খান।

তিনি বলেন ২০০৭ সালে অল্প সংখ্যক মানুষের সুবিধা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক দূরত্ব টেলিযোগাযোগ পরিষেবা আইএলডিটিএস (ILDTS) নীতি প্রণয়ন করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখনও সে নীতি চলমান, তবে কিছুটা প্রসারিত হয় তাও কিছু নির্দিষ্ট গ্রাহকের কথা বিবেচনায় করে।

বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলোকে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে হয়, গতি বাড়ানোর জন্য বেশি ব্যান্ডউইথ কিনতে হলে তাদের খরচ বেড়ে যায়। গতি বৃদ্ধির জন্যও মধ্যস্থতাকারী কোম্পানিগুলোকে ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

আরো পড়ুন :  ব্যবহৃত ফোন বিক্রির আগে যা করনীয়

কারা এই মধ্যস্থতাকারী?

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আইএসপি (ISP) এবং মোবাইল অপারেটররা সরাসরি আন্তর্জাতিক পাইকারি বাজার থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ কিনতে পারে না। তাদেরকে নির্ভর করতে হয় ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেটকে গেট‌ওয়ে আইআইজি (IIG) ন্যাশন হওয়আইড (nation-wide) টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এনটিটিএন (NTTN) এবং ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে আইজিডব্লিউর (IGW) ওপর।

ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের মান নিয়ে চিন্তিত নয় এসব মধ্যস্বত্বাভোগীরা। সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশের নিম্নমানের ব্যান্ডউইথ বিক্রির সুযোগ পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি পাইকারি ব্যান্ডউইথ বিক্রির জন্য কোন মান নির্ধারণ করেননি বিটিআরসি (BTRC)। শুধু ব্রডব্যান্ড পরিষেবা প্রদানের নূন্যতম ব্যান্ডউইথ ১০ এমবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি উত্তরণের উপায় কি?

স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ হওয়ার পথে বড় বাধা হতে যাচ্ছে ইন্টারনেটের এই ধীরগতির। মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে এবং ব্যান্ডউইথের দাম কমাতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। প্রয়োজনে বাতিল করতে হবে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিবন্ধন। ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী মোবাইল অপারেটরদের সুযোগ দিতে হবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ব্যান্ডউইথ কেনার। এর জন্য টেলিকম কোম্পানি গুলোর অবকাঠামোগত পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এর সাথে সাথে বাড়াতে হবে তাদের বিনিয়োগ। তবেই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *