হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে

হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে | জেনে নিন হাই তোলার অপকারিতা ও করণীয়

ধর্ম

হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। হাই তোলার সময় আমার মুখ দিয়ে ভিবিন্ন শব্দ করে থাকি। এই শব্দ করার বা হাই তোলার অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকের জানা নেই।

প্রিয় ইসলাম বন্ধুরা! এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা জানবো হাই কেন আসে? হাই আসলে শয়তান কেন খুশি হয়? হাই তোলার ইসলামিক ইতিহাস।

হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। হাই তোলার অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের মধ্যে অনেকের জানা নেই। যখনই হাই আসে তখন অনায়াসে মুখ খুলে ‘হা হা’, ‘ওহ ওহ’ ইত্যাদি উল্টো পাল্টা শব্দ বের করে। এ পরম্পরায়ও আমাদেরকে জ্ঞান লাভ করা চাই,যাতে করে ওই শয়তানী কাজটা আমাদের থেকে দূরীভূত করতে পারি।

হাই আসলে শয়তান কেন খুশি হয়?

শয়তান হাই তুললে বেশি খুশী হয়! সাইয়্যেদুনা হযরত আবূ হােরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, “হুযূর সাইয়্যেদে দু’আলম (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) এরশাদ ফরমায়েছেন, “আল্লাহর নিকট হাঁচি পছন্দনীয় এবং হাই তােলা পছন্দনীয় নয়”

 

যখন কেউ হাঁচি দেয়, আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলে তখন যেই মুসলমান তা শুনে তার দায়িত্ব হয়ে যায় ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা। কারো যখন হাই আসে তা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। যখন কারাে হাই আসে, তখন যতটুকু সম্ভব হয় তা নিয়ন্ত্রণ করা চাই। কেননা, যখন কেউ হাই তােলে তখন শয়তান হাসে অর্থাৎ খুশী হয়। কেননা এটা অলসতার প্রমাণ । এমন জিনিষকেই শয়তান অত্যন্ত পছন্দ করে।

আরো পড়ুন :  আল্লাহ তাঁর বিশেষ বান্দাদের ইহকাল ও পরকালীন জীবনে সুসংবাদ দিয়েছেন

মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে,

যখন কোন ব্যক্তি হাই দেওয়া সময় ‘হু’ বলে। তখন শয়তান হাসে। হাই তােলার সময় মুখ খােলা রাখলে শয়তান মুখে ঢুকে পড়ে।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলছেন,“হুযূর সাইয়্যেদে দু’আলম (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) এরশাদ ফরমায়েছেন,“যখন তােমাদের মধ্য থেকে কেউ হাই তােলে, তখন তার উচিত হচ্ছে নিজের হাত আপন মুখে রেখে দেয়া। কারণ খােলা মুখে শয়তান ঢুকে পড়ে। (মুসলিম শরীফ)

হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে। যখন বান্দা হাই তােলার সময় মুখ খােলে, তখন শয়তান মুখের ভিতর ঢুকে পড়ে। বান্দা ‘হা হা’, ‘ওহ ওহ’ আওয়াজ বের করলে শয়তান তথন অট্ট হাসি দেয়।

আরো পড়ুন: আল্লাহ তাঁর বিশেষ বান্দাদের ইহকাল ও পরকালীন জীবনে সুসংবাদ দিয়েছেন

হাই আসলে করণীয় কি?

হায় আসে ক্লান্তি থেকে আর ক্লান্তিতা শয়তানের পছন্দের জিনিস। হাই আসলে কিছু পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে আমরা এর থেকে মুক্তি পেতে পারি।

  • যখন হাই আসতে থাকে তখন উপরের দাঁতগুলাে দিয়ে নীচের কষ্ঠকে চেপে ধরবেন।
  • হাই আসলে বাম হাতের পিঠ মুখের উপর রেখে দিন।
  • নামাযে দাঁড়ানাে অবস্থায় যদি হাই আসে তখন ডান হাতের পিঠ মুখের উপর রাখবেন।

যদি কখনাে হাই আসতে আরম্ভ করে তখন তাৎক্ষণিকভাবে স্মরণ করবেন যে, নবীগণ (আলাইহিমুস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম)- এর কখনাে হাই আসেনি, কিংবা একথা মনে মনে স্মরণ করবেন যে, “হুযূর সাইয়্যেদে দু’আলম (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) -এর কখনাে হাই আসেনি। কেননা, হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) শয়তানের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকেন। ইনশাআল্লাহ! হাই তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন :  "ফেব্রুয়ারিতেই শুরু তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা"

হে আমাদের মাবুদ! (আয্যা ওয়া জাল্লা) আমাদেরকে এ শয়তানী আমলের অপকারিতা ও সেটার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় দান করুন। যখন আমাদের মধ্যে এর উদ্রেগ দেখা দেয় আর তখন “হুযূর সাইয়্যেদে দু’আলম (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশ অনুসারে আমাদেরকে বর্জন করার শক্তি দান করুন। আমীন!

বিজাহিন্নাবিয়্যিল আমীন! (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম।) লেখাটা পড়ে যদি উপকারে আসে তাহলেই স্বার্থকতা!

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন: নামাজে থাকা অবস্থায় হাই আসলে কি করব?

উত্তর: নামাযে দাঁড়ানাে অবস্থায় যদি হাই আসে তখন ডান হাতের পিঠ মুখের উপর রাখবেন।

প্রশ্ন: হাই তোলার পরে কি দোয়া পড়তে হয়?

উত্তর: হাই তোলার পরে পড়তে হবে এমন কোন দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়নি। তবে হাই আসলে তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কেননা হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে।

প্রশ্ন: নামাজে দাঁড়ালে বেশি বেশি হাই আসার কারণ কি?

উত্তর: নামাজে দাঁড়ালে হায় তোলার কারণ হলো অমনোযোগিতা।

প্রশ্ন: হাই তোলা ভালো নাকি খারাপ?

উত্তর: না, হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। আর শয়তান আমাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না।

প্রশ্ন: দৈনিক কতবার হাই আসে?

উত্তর: দৈনিক ২০ বারের বেশি হাই তোলা উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *