ইন্ডিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দিলে কি হবে বাংলাদেশের

ইন্ডিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দিলে কি হবে বাংলাদেশের?

বাণিজ্য

ইন্ডিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দিলে কি হবে বাংলাদেশের? এই পোস্টের মধ্যে আমরা তাই জানার চেষ্টা করব যে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার উপর কতটা নির্ভরশীল।

আমদানিতে ইন্ডিয়ার উপর কতটা নির্ভরশীল বাংলাদেশ

ভারতের অধিকাংশ মানুষের ধারণা ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ ভীষণ বিপদে পড়বে। আবার বাংলাদেশের অনেকের ধারণা বাংলাদেশ এতটাও পেলে দেওয়ার পাত্র নয় যে ভারত থেকে পণ্য না আসলেও বাংলাদেশের কোন সমস্যাই হবে না।

কিন্তু বাস্তবতা কি বলছে, ভারতীয় পণ্য আমদানির না করে বাংলাদেশ কি চলতে পারবে?

খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপারে বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি পণ্য আমদানি করে থাকে। অতীতে দেখা গেছে ভারত থেকে পেঁয়াজ এবং কাঁচা মরিচের মত পণ্য আসা বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশ বেস বিপদে পড়েছে। পেঁয়াজের কেজি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে এবং কাঁচামরিচের কেজি হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের বাৎসরিক পেঁয়াজের চাহিদা ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। যার ৯৫% আসে ভারত থেকে। তাই খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপারে বাংলাদেশে এখনও ভারত নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ইন্ডিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দিলে কি হবে বাংলাদেশের?

সেবাখাত

এবার আসা যাক সেবাখাতে, ভারতের BUREAU OF IMMIGRATION দপ্তরের হিসাবমতে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক যায় বাংলাদেশ থেকেই। তার বেশিরভাগই আসে উন্নত চিকিৎসার জন্য। এছাড়া কেনাকাটা এবং ভ্রমণের জন্য‌ও অনেকে ভারতে যায়। প্রতিবছর কলকাতা শপিং মল গুলোতে লক্ষাধিক বাংলাদেশের হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে। কেননা কেনাকাটার জন্য বাংলাদেশের মানুষের প্রথম পছন্দ হচ্ছে কলকাতা।

আরো পড়ুন :  জ্বালানি তেলের দাম কমেছে

আরো পড়ুন: সর্বকালের রেকর্ড গড়ল স্বর্ণের দাম। 

চিকিৎসা খাত

স্বাস্থ্য খাতে অন্তর্ভুক্ত অনেক ভ্যাকসিন এবং ওষুধ ইন্ডিয়া থেকে আনতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ভারত থেকে আমদানি করতে হয়।

গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানি

বাস-ট্রাক এবং গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশে দিন দিন ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ইন্ডিয়া থেকে টয়োটা, মারুতি, সুজুকি এবং হুন্দাই এর গাড়ি আনা হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন বিএরটিসি (BRTC) ভারত থেকে নতুন ৬০৫ টি বাস এবং ৫০০ ট্রাক আমদানি করে। শুধু গাড়ি আমদানি নয় Motor Parts এর জন্যও ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

বাংলাদেশের যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার গাড়ির চেসিস এবং মোটর পার্টস আমদানি করা হয়। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বেনাপোল দিয়ে মোট ৩,৫৮,০০০ পিস গাড়ির চেসিস আমদানি করা হয়। যেগুলার দাম পড়ে প্রায় ১৭ হাজার ২৯৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এছাড়া ভারত থেকে মোটর পার্টস আমদানি হয়েছে ৮ কোটি ৪৩ লাখ কেজি। যার মূল্য ছিল প্রায় ২১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার। ইন্ডিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দিলে কি হবে বাংলাদেশের?

বস্ত্র তৈরির কাঁচামাল

বস্ত্র ও পোশাক খাতের অপরিহার্য একটি কাঁচামাল হল তুলা। বিগত বছরগুলোতে আমদানিকৃত তুলার প্রধান উৎস দেশ ছিল ভারত। বাংলাদেশের তুলার মোট চাহিদার ৫০ ভাগ আসে ভারত থেকে। তবে করনার আগে মোট চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ তুলা ভারত থেকে আমদানি করা হতো। ঐ সময়টায় বাংলাদেশ তুলা আমদানির ক্ষেত্রে আফ্রিকার দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে ছিল এবং ভারত নির্ভরতা কাটিয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিশ্বরাজনীতির মারপ্যাচে পড়ে ভারত থেকে আরো বেশি বেশি তুলা আমদানি করতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন :  সোনার দাম ফের রেকর্ড

অর্থনীতিবিদ গন মনে করেন ভারত থেকে বাংলাদেশের এমন আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন! তবে অসম্ভব নয়।

একটা সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ গরু আসত কিন্তু বর্তমানে তেমন গরু আমদানি করা লাগে না। তার কারন বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রচুর গরুর খামার গড়ে উঠেছে।

অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে বাংলাদেশের খামারিরা ভারতীয় গরু আমদানি ঠেকানোর দাবি জানাচ্ছেন।

তবে সবদিক বিবেচনায় দেখা যায় যে বাংলাদেশ ভারত নির্ভরতার চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ ২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৮৮৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। ভারত থেকে এত বেশি পণ্য আমদানি করার কারণ আছে। তার প্রধান কারণ হলো: ভারত থেকে পণ্য আমদানির সবচেয়ে অসুবিধা হচ্ছে পরিবহন খরচ কমে যাওয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পণ্য জাহাজীকরণ এ প্রচুর সময় লাগে জায়। ভারতের ভোগ্যপণ্য দামের দিক থেকে বেশি হলেও পরিবহন খরচের কারণে আমদানিকারকেরা লাভ করার সুযোগ পায়।

পার্টি কারণে আমদানিকারকদের জন্য ভারত স্বর্গ হয়ে উঠেছে এবং ভারত থেকে প্রচুর পণ্য বাংলাদেশে আসছে। ইন্ডিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দিলে কি হবে বাংলাদেশের

তাই ভবিষ্যতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে হয়তো ভারত নির্ভরতা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *